রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি) চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) ১৪০ কোটি ৩ লাখ টাকা কর-পরবর্তী নিট মুনাফা করেছে, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৬৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এ সময়ে কোম্পানিটির নিট মুনাফা কমেছে ১৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ। কোম্পানিটির চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্যানুসারে, চলতি হিসাব বছরের জুলাই-মার্চ প্রান্তিকে সাবমেরিন কেবলসের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ৬ টাকা ৮৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৮ টাকা ২৯ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৮৬ টাকা ৪১ পয়সায়।
চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে সাবমেরিন কেবলসের কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৪৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৩৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ১ টাকা ৯৯ পয়সা।
সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিএসসি পিএলসির পর্ষদ বিনিয়োগকারীদের জন্য ৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির আয় হয়েছে ৩৯৯ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫১৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে কোম্পানিটির আয় কমেছে ২২ দশমিক ৫২ শতাংশ। সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১১ টাকা ১০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১৬ টাকা ৯২ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৯৩ টাকা ৬ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ৫১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে বিএসসিপিএলসি। সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৪৬ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল কোম্পানিটি। সমাপ্ত ২০২০-২১ হিসাব বছরে ৩৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা। সমাপ্ত ২০১৯-২০ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি। ২০১৮-১৯ হিসাব বছরে ১৬ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন বিএসসিপিএলসির শেয়ারহোল্ডাররা। সমাপ্ত ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল তারা। আগের হিসাব বছরে ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা।
২০১২ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিএসসিপিএলসির অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৮৭ কোটি ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১ হাজার ২৭৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১৮ কোটি ৭০ লাখ ৩৮ হাজার ৮৪৩।
এর মধ্যে সরকারের কাছে রয়েছে ৭৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ শেয়ার। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৫ দশমিক শূন্য ২, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে ২ দশমিক শূন্য ৭ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।